রাস্কলনিকভের খোঁজে
বৎস (সিনক), কিছুক্ষণ আগে এখান দিয়ে এক ছেলে দৌড়ে গেছে। তুমি কি দেখেছ ওকে?
পড়ন্ত বিকেলে পিতেরবুরগের আলো আঁধারে
ঢাকা পুরনো রাস্তায় ছবি তুলছিল অভি। পিতেরবুরগকে এদেশের লোকেরা সংক্ষেপে বলে পিতের।
কিছুটা বিরক্তই হয় এই সময়ে একজন এসে কথা শুরু করল বলে। সারাদিন জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে
হতে সূর্যটা এই বিকেলের জন্য অপেক্ষা করে। তখন আর ওর তর সয়না। যত দ্রুত পারে ফিনস্কি
উপসাগরে ডুব দিয়ে শরীরটা একটু জুড়িয়ে নিতে চায়। ছবি তোলার জন্য এখন প্রতিটি মুহূর্ত
হীরের টুকরোর মত দামী। আর এখন কিনা কোথাকার কোন বুড়ি এসে তাঁর নাতির খবর জানতে চাইছে।
শত হলেও অভি অতিথি। অনেক দূর থেকে এসেছে মাত্র কয়েক দিনের জন্য পিতেরে কিছু ছবি তুলতে
বলে। শুনেছে এখানকার লোকজন খুব ভদ্র। তাই নিজেকে একটু সামলে নিয়ে উত্তর দিল
না, ঠাম্মা (বাবুশকা) – কাউকে তো এদিকে দৌড়ে যেতে দেখিনি।
একটু ভালো করে খেয়াল কর। ওকে আমার খুব দরকার।
ও বুঝি আপনার নাতি?
নাতি না ছাই! আমার সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। এই বয়সে আমাকে সর্বস্বান্ত করে গেছে।
তা আপনি পুলিশে খবর দেন না কেন?
আবার পুলিশ? ওরা আমাকে পাগল বলে তাড়িয়ে দেয়। যাকগে, দুঃখিত তোমার সময় নষ্ট করলাম বলে।
দেখি যদি অন্য কেউ দেখে থাকে।
এই বলেই বুড়িটা হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেল। যেন তার কোন অস্তিত্বই ছিল না। এতক্ষণ অভির
মন পড়ে ছিল দেয়ালের গায়ে আলো ছায়ার বিচিত্র নকশায়। কিন্তু বুড়ি এভাবে চলে যাবার পরেই
ওর মনে কৌতূহল জেগে উঠলো। ও স্পষ্ট দেখতে পেল বুড়ির কপালে কুঠারের আঘাত। তখনও সেখান
থেকে একটু একটু করে রক্ত ঝরছিল।
তাহলে কি এই বুড়ি রাস্কলনিকভের খোঁজে বেড়িয়েছে? – মনে মনে বলে উঠলো অভি। হঠাৎ করেই ও যেন কোন এক টাইম মেশিনে চলে গেল উনবিংশ শতাব্দীর পিতেরে। ওর চারিদিকে দেশ বিদেশের যেসব ট্যুরিস্টরা ঘোরাফেরা করছিল, সবাই যেন কোথায় উধাও হয়ে গেছে। চারিদিকে দরিদ্র মানুষের ভিড়। মাঝে মধ্যে দু একটা ঘোড়ার গাড়ি চলে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। সেখান থেকে উঁকি দিচ্ছে ভদ্র ঘরের পুরুষ আর মহিলাদের মুখ। সাদা রাতের এই আলো আঁধারের খেলা দেখতে সমস্ত বিশ্ব যেন নেমে এসেছে পিতেরের মাটিতে।

Comments
Post a Comment