স্তারেতস জশিমা
হাঁটতে হাঁটতে অভি এসে দাঁড়ালো গ্রিবয়েদভ কানালের সামনে। বিকেলের আলোয় আলোকিত ঘরবাড়ি ভাসছে ওর জলে। ছোট ছোট ঢেউয়ে ওরা দুলছে আর প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন রূপ ধারণ করছে। অভি প্রচণ্ড ভালবাসে এসব ছবি তুলতে। কি করে যে আধা ঘণ্টা সময় কেটে গেল অভি টেরই পায়নি। কানালে চলছে ছোট ছোট বোট। দেশ বিদেশের ট্যুরিস্ট ভর্তি সেসব বোট থেকে ভেসে আসছে নানা ভাষার বুলি। এ যেন পাখির হাট। চারিদিক থেকে কিচির মিচির শব্দ বাতাসে ভাসতে ভাসতে অভির কানে ঢুকছে অথচ ও কিছুই বুঝতে পারছে না। বিভিন্ন ভাষার শব্দ মিলেমিশে এক রোম্যান্টিক পরিবেশ তৈরি করেছে। হঠাৎ কানালের জলে এক পরিচিত মুখ ভেসে উঠলো। রাস্কলনিকভ? ওর পেছনে দাঁড়িয়ে জলে উঁকি দিচ্ছে বলে মনে হল অভির। ও দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। না, কেউ নেই। যেন কেউ ছিলই না। শুধু কিছু চীন দেশের লোক ওর চারিদিকে। ওরা যাচ্ছে সাবর স্পাস না ক্রোভির দিকে। মস্কোয় যেমন রেড স্কয়ারে সেন্ট ভাসিল ক্যাথেড্রাল, পিতেরে তেমনি সাবর স্পাস না ক্রোভি। গড়নের দিক থেকেও অনেক মিল। এর অফিসিয়াল নাম সাবর ভস্ক্রেসেনিয়ে খ্রিস্তভা না ক্রোভি বা খ্রাম স্পাসা না ক্রোভি। এখানেই ১৮৮১ সালের ১ (১৩) মার্চ জার (ৎসার) দ্বিতীয় আলেক্সান্দর আততায়ীর হাতে প্রাণ ত্যাগ করেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয় আর সেটা হয় সমস্ত রাশিয়ার জনগণের দানের টাকায়। জনতার ভিড়ে অভিও সেদিকেই চলে গেল। পাশেই মিখাইলভস্কি গার্ডেন। এই বন্ধ হয় হয়।
দেরি না করে অভি ওখানে ঢুকে গেল বাগানের কিছু ছবি তুলতে। দূরে কে যেন চিৎকার করছে। লোকজন মাতাল হলে সাধারণত এভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করে। কিন্তু কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সেদিকে। সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। বাচ্চারা আইসক্রিম খাচ্ছে, যুবক যুবতীরা হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখে মনে হয় অভি ছাড়া আর কারোই চোখে পড়ছে না ঐ লোকটার মাতলামি। হতে পারে দেখে দেখে অভ্যস্ত লোকজন এসব আর গায়ে মাখে না। অভি যে প্রথম মাতাল দেখছে তা নয়। তবে এরকম জায়গায়, যেখানে শত শত মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে ও এ দৃশ্য আশা করেনি। তবে এটাও ঠিক ভিক্ষুক জাতীয় মানুষ উপাসনালয়ের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে। অভি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে মাতাল লোকটাকে। এই গরমেও শীতের পোশাক পরা। হঠাৎ শুভ্র শ্মশ্রুধারী এক বৃদ্ধ এসে সেই মাতালকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন। এত কিছুর পরেও কেউ সেদিকে তাকিয়েও দেখছে না। তাহলে এসব কি শুধুই গল্প? যেন দ্মিত্রি কারামাজভ আর স্তারেতস জশিমা বইয়ের পাতা থেকে বেরিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মিখাইলভস্কি গার্ডেনে। অভি দ্রুত বের হয়ে গেল বাগান থেকে। সূর্যের শেষ আলোয় ঝলমল করছে স্পাস না ক্রোভি গির্জার কুপালা বা গম্বুজ। ছবি তোলার এইতো সময়। অভি গির্জার চারপাশে ঘুরে বেশ কিছু ছবি নিল। শ্বেত রাত্রি দেখতে পিতেরে নেমেছে ট্যুরিস্টদের ঢল। এত মানুষ যে আপেল পড়ার জায়গা পর্যন্ত নেই। সেই ভিড় ঠেলে অভি যাত্রা করল শীত প্রাসাদের দিকে।

Comments
Post a Comment